বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শোকজ নোটিশ দেয়নি।
বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গতকাল তারেক রহমান সেখানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। আমরা দেখছি অন্য প্রার্থীদের ছোটখাটো কারণে শোকজ করা হচ্ছে, কিন্তু তারেক রহমান সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়ানোর পরও কমিশন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একদিকে হেলে পড়ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখানে স্পষ্টত বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তারেক রহমানের জন্য এক নীতি আর অন্য সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ভিন্ন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
এ সময় বিএনপি নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, “তারেক রহমান একটি বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। দেশের মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই আমাদের অনুরোধ থাকবে, দয়া করে এমন কোনো কাজ করবেন না যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, “গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় আমাকে শোকজ করা হয়েছিল। অথচ বিএনপির প্রার্থীরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করছেন এবং এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি মির্জা আব্বাসের পক্ষে সরাসরি ধানের শীষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিলি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চললেও কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমান কমিশন আগের বিতর্কিত কমিশনগুলোর পথেই হাঁটছে। কর্মকর্তারা হয়তো মনে করছেন প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাদের পদ থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা-৮ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা কে দেবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, দেশের অনেক গণমাধ্যম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব অনিয়মের সংবাদ সঠিকভাবে প্রচার করছে না।
রিপোর্টারের নাম 
























