ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনা এলাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সফর ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার চীনা রাষ্ট্রদূত ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেন’স নেক’-এর নিকটবর্তী তিস্তা প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন করেন।

মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রস্থের এই সংকীর্ণ ভূমিটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র পথ। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
পরিদর্শনকালে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি রংপুরের টেপামধুপুর এলাকায় সাংবাদিকদের জানান, চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা (টিএমপি) দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং উভয় দেশই প্রকল্পটি সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রকল্পের স্ক্রুটিনি বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হওয়ায় এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের সাথে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই চীনা প্রকল্পের দিকে ঝুঁকে পড়াকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সফরের আগে রবিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইয়াও ওয়েনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে, চীন বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চীনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই অঞ্চলে বেইজিংকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে ‘ল্যান্ডলকড’ এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে ‘মহাসাগরের একমাত্র অভিভাবক’ হিসেবে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলো ভারতের জন্য উদ্বেগের বড় উৎস হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























