দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ শতাংশই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬ হাজার ৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এবারের নির্বাচনের নিরাপত্তা তদারকিতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে প্রথমবারের মতো ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ থেকে এই নজরদারি পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী ২০০টি, বিজিবি ১০০টি এবং পুলিশ ৫০টি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নিতে এনটিএমসি ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ চালু করেছে। দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী সামগ্রী পাঠাতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের মূল দায়িত্ব পালনে মাঠে থাকবে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ সেনাসদস্য ছাড়াও আনসার, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে বৈধ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল থাকবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ শেষ করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























