ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ডিপফেক আতঙ্কে ইসি ও প্রার্থীরা, গুজব ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভিডিওর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়-পরাজয়ের লড়াই যখন সমানে সমান, তখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে জনমত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, গত নির্বাচনের তুলনায় বর্তমানে এআই প্রযুক্তি অনেক বেশি সহজলভ্য হওয়ায় এবার অপতথ্যের প্রচার বহুগুণ বাড়তে পারে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসেই ৪৪৬টি রাজনৈতিক ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে এবং পূর্বের তুলনায় এআই-ডিপফেকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৪০৯ শতাংশ।

এই ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন। গুজব ও অপতথ্য রুখতে গঠন করা হয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সাধারণ ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো ভিডিও বা ছবি বিশ্বাস করার আগে ‘ইমেজ হুইস্পারার’ বা ‘ডিপওয়্যার স্ক্যানার’-এর মতো টুল ব্যবহার করে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও এই নতুন আপদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল হক মনে করেন, একটি ভুল তথ্য মাত্র এক ঘণ্টা অনলাইনে থাকলেও একজন নিশ্চিত জয়ী প্রার্থীর পরাজয় ঘটতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুততম সময়ে ভোটারদের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো। অন্যদিকে, গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরাও নিজস্ব উদ্যোগে সেল গঠন করে গুজব প্রতিরোধের পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তির এই অপব্যবহার ঠেকাতে না পারলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য দূর করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ডিপফেক আতঙ্কে ইসি ও প্রার্থীরা, গুজব ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় সরকার

আপডেট সময় : ১২:২৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভিডিওর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়-পরাজয়ের লড়াই যখন সমানে সমান, তখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে জনমত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, গত নির্বাচনের তুলনায় বর্তমানে এআই প্রযুক্তি অনেক বেশি সহজলভ্য হওয়ায় এবার অপতথ্যের প্রচার বহুগুণ বাড়তে পারে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসেই ৪৪৬টি রাজনৈতিক ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে এবং পূর্বের তুলনায় এআই-ডিপফেকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৪০৯ শতাংশ।

এই ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন। গুজব ও অপতথ্য রুখতে গঠন করা হয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সাধারণ ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো ভিডিও বা ছবি বিশ্বাস করার আগে ‘ইমেজ হুইস্পারার’ বা ‘ডিপওয়্যার স্ক্যানার’-এর মতো টুল ব্যবহার করে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও এই নতুন আপদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল হক মনে করেন, একটি ভুল তথ্য মাত্র এক ঘণ্টা অনলাইনে থাকলেও একজন নিশ্চিত জয়ী প্রার্থীর পরাজয় ঘটতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুততম সময়ে ভোটারদের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো। অন্যদিকে, গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরাও নিজস্ব উদ্যোগে সেল গঠন করে গুজব প্রতিরোধের পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তির এই অপব্যবহার ঠেকাতে না পারলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।