ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই পাল্টা অভিযোগ করেন।
মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা দাবি করেন, নির্বাচনী মাঠে বর্তমানে কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শোকসভার নামে বড় বড় জনসভা করছেন, স্টেজ ও মাইক ব্যবহার করছেন এবং গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন করছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ তার ক্ষেত্রে সামান্য বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির এক নেতার দেখানো অঙ্গভঙ্গির উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি বিষয়টি বুঝিয়েছি। আমার একটি কথিত অপরাধের জন্য তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যারা আগে থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট, এমন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করা কঠিন।” তিনি আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অন্যান্য প্রার্থীদের জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে চার-পাঁচশ লোকের উপস্থিতিতে স্টেজ বানিয়ে জনসভা করার অভিযোগে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান তাকে ২২ জানুয়ারি সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
শোকজ নোটিশের বিষয়ে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চিঠি পেয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এর জবাব দেবেন। তবে প্রচার শুরুর আগেই এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। ৫ আগস্টের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে দেশের যেকোনো আসনেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
রিপোর্টারের নাম 
























