ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগঠনগুলোর অভূতপূর্ব ঐক্য: এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে সদ্য সমাপ্ত গণঅভ্যুত্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সর্বজনীন অংশগ্রহণ। আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক ছাড়া প্রায় সকল মতাদর্শের মানুষ এই আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিল। বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, বাসদের মতো প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত এবং বর্তমান এনসিপির নেতাকর্মীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। এমনকি আসিফ আদনানদের মতো কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ফলে, এই আন্দোলন কেবল মধ্যপন্থীদেরই নয়, বরং কট্টর বাম ও ডানপন্থীদেরও এক অভূতপূর্ব মিলনের সাক্ষী হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পতনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ থেকে ছাত্রলীগের পতন। ২০১৩-১৪ সালের দিকে বিএনপি-জামায়াত অনেক চেষ্টা করেও এই দুটি শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্রলীগকে হটাতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল কেন্দ্র এবং ঢাকা কলেজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর পেশিশক্তি ও ছাত্র সংগঠনের কর্মী সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিতাড়িত করা সম্ভব হওয়াটা আন্দোলনের সফলতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

ছাত্রলীগকে হল থেকে তাড়ানোর এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, বরং বহু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আন্দোলনটি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কোনো একক বর্ণনায় এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এখানে সেই ঐতিহাসিক পর্বের কিছু পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এটি সমগ্র ঘটনার একমাত্র বিবরণ নয়; সেই সময়কালে আরও অনেক ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যাদের অনেকের নাম হয়তো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ নেই।

জুন মাসের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির এবং ৭-৮ জুলাই নাগাদ ছাত্রদলকে কীভাবে আন্দোলনে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছিল। শুরুতে কোনো দলই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সমর্থন দেয়নি। ছাত্রশিবির আন্দোলনে থাকবে কিনা, এই বিষয়ে মাহফুজ ভাই ও আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মেদিনা: ‘গুজবে কান দেবেন না’

গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগঠনগুলোর অভূতপূর্ব ঐক্য: এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

আপডেট সময় : ১২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সদ্য সমাপ্ত গণঅভ্যুত্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সর্বজনীন অংশগ্রহণ। আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক ছাড়া প্রায় সকল মতাদর্শের মানুষ এই আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিল। বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, বাসদের মতো প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত এবং বর্তমান এনসিপির নেতাকর্মীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। এমনকি আসিফ আদনানদের মতো কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ফলে, এই আন্দোলন কেবল মধ্যপন্থীদেরই নয়, বরং কট্টর বাম ও ডানপন্থীদেরও এক অভূতপূর্ব মিলনের সাক্ষী হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পতনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ থেকে ছাত্রলীগের পতন। ২০১৩-১৪ সালের দিকে বিএনপি-জামায়াত অনেক চেষ্টা করেও এই দুটি শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্রলীগকে হটাতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল কেন্দ্র এবং ঢাকা কলেজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর পেশিশক্তি ও ছাত্র সংগঠনের কর্মী সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিতাড়িত করা সম্ভব হওয়াটা আন্দোলনের সফলতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

ছাত্রলীগকে হল থেকে তাড়ানোর এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, বরং বহু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আন্দোলনটি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কোনো একক বর্ণনায় এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এখানে সেই ঐতিহাসিক পর্বের কিছু পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এটি সমগ্র ঘটনার একমাত্র বিবরণ নয়; সেই সময়কালে আরও অনেক ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যাদের অনেকের নাম হয়তো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ নেই।

জুন মাসের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির এবং ৭-৮ জুলাই নাগাদ ছাত্রদলকে কীভাবে আন্দোলনে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছিল। শুরুতে কোনো দলই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সমর্থন দেয়নি। ছাত্রশিবির আন্দোলনে থাকবে কিনা, এই বিষয়ে মাহফুজ ভাই ও আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।