ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৬১ সড়ক ক্ষতবিক্ষত, জনদুর্ভোগ চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৬১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক, ছয়টি কালভার্ট এবং একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও চলাচল উপযোগী করতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এলজিইডির প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্যার তীব্র স্রোতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের বাঁধ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক স্থানে সড়কের ঢাল ধসে পড়া এবং মাটি সরে যাওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে গাটিয়াডেঙ্গা-দেওদীঘি-মির্জাখীল, চরতী-খোদারহাট-বাজালিয়া-বোমাংহাট, উপজেলা সদর-কেরানীহাট, ফুলতলা-খোদারহাট, চরতী দারুস সালাম মার্কেট-সাঙ্গুঘাট, এওচিয়া-পুকুরিয়া বাজার, ছদাহা-দস্তিদারহাট, কাঞ্চনা-চানপুর, কালিয়াইশ-মাস্টারহাট, মিঠাদীঘি-ছদাহা ও ফকির-মিঠাদীঘি সড়ক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।

সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ১০ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৬১ সড়ক ক্ষতবিক্ষত, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ১০:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৬১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক, ছয়টি কালভার্ট এবং একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও চলাচল উপযোগী করতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এলজিইডির প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্যার তীব্র স্রোতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের বাঁধ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক স্থানে সড়কের ঢাল ধসে পড়া এবং মাটি সরে যাওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে গাটিয়াডেঙ্গা-দেওদীঘি-মির্জাখীল, চরতী-খোদারহাট-বাজালিয়া-বোমাংহাট, উপজেলা সদর-কেরানীহাট, ফুলতলা-খোদারহাট, চরতী দারুস সালাম মার্কেট-সাঙ্গুঘাট, এওচিয়া-পুকুরিয়া বাজার, ছদাহা-দস্তিদারহাট, কাঞ্চনা-চানপুর, কালিয়াইশ-মাস্টারহাট, মিঠাদীঘি-ছদাহা ও ফকির-মিঠাদীঘি সড়ক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।

সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।