ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সারাদেশে বর্ষার দাপট: নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, বন্যার ঝুঁকিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আকাশজুড়ে শ্রাবণের মেঘের ঘনঘটা আর টানা বর্ষণে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের নদ-নদীগুলো। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরে বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর এবং সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকায় বিপদের সংকেত দিচ্ছে। তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে।

এদিকে বৃষ্টির এই দাপট কেবল মফস্বলেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানী ঢাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুর গড়াতেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি, যা জনজীবনকে কিছুটা স্থবির করে দেয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে বিকেল পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের নদ-নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লির আন্দোলনকারীদের জন্য সংহতির বার্তা: ভারতজুড়ে পাঠানো হচ্ছে খাবার ও রসদ

সারাদেশে বর্ষার দাপট: নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, বন্যার ঝুঁকিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল

আপডেট সময় : ১২:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আকাশজুড়ে শ্রাবণের মেঘের ঘনঘটা আর টানা বর্ষণে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের নদ-নদীগুলো। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরে বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর এবং সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকায় বিপদের সংকেত দিচ্ছে। তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে।

এদিকে বৃষ্টির এই দাপট কেবল মফস্বলেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানী ঢাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুর গড়াতেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি, যা জনজীবনকে কিছুটা স্থবির করে দেয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে বিকেল পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের নদ-নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।