ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও আয়নাঘর নির্যাতনের বিচার শুরু: শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১২ জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিচারিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেআইসি সেল বা তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে আজ সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শুরু হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করছেন। মামলার প্রথম দিকের সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন দীর্ঘ সময় গুম থাকার পর ফিরে আসা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং সাবেক কর্নেল হাসিনুর রহমান। গত ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত করেছিলেন।

অভিযুক্ত ও পলাতক আসামিদের তালিকা
এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৩ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ১০ জন এখনো পলাতক।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক শীর্ষ কর্মকর্তা: ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ জন মহাপরিচালক (ডিজি) সহ মোট ১০ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাইফুল আবেদিন, সাইফুল আলম, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং হামিদুল হক। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন।

অভিযোগের ভয়াবহতা ও সময়কাল
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালকে অপরাধের ব্যাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ২৬ জনকে গুম ও গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ৭ ডিসেম্বর শুনানিতে জেআইসি সেলে বন্দিদের ওপর চালানো বীভৎস নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত তা নাকচ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

গুম ও নির্যাতন মামলার প্রধান আসামী ও বর্তমান অবস্থা

পদের নামঅভিযুক্ত কর্মকর্তাবর্তমান অবস্থা
সাবেক প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনাপলাতক
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টামেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকপলাতক
সাবেক ডিজি (DGFI)লে. জেনারেল (অব.) সাইফুল আলমসহ ৫ জনপলাতক
সাবেক পরিচালকমে. জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেনগ্রেপ্তার
সাবেক পরিচালকব্রি. জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকীগ্রেপ্তার

আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে একটি বড় অগ্রগতি অর্জিত হলো। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে গুম ও রাষ্ট্রীয় মদদে হওয়া নির্যাতনের রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

গুম ও আয়নাঘর নির্যাতনের বিচার শুরু: শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১২ জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিচারিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেআইসি সেল বা তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে আজ সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শুরু হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করছেন। মামলার প্রথম দিকের সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন দীর্ঘ সময় গুম থাকার পর ফিরে আসা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং সাবেক কর্নেল হাসিনুর রহমান। গত ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত করেছিলেন।

অভিযুক্ত ও পলাতক আসামিদের তালিকা
এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৩ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ১০ জন এখনো পলাতক।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক শীর্ষ কর্মকর্তা: ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ জন মহাপরিচালক (ডিজি) সহ মোট ১০ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাইফুল আবেদিন, সাইফুল আলম, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং হামিদুল হক। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন।

অভিযোগের ভয়াবহতা ও সময়কাল
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালকে অপরাধের ব্যাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ২৬ জনকে গুম ও গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ৭ ডিসেম্বর শুনানিতে জেআইসি সেলে বন্দিদের ওপর চালানো বীভৎস নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত তা নাকচ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

গুম ও নির্যাতন মামলার প্রধান আসামী ও বর্তমান অবস্থা

পদের নামঅভিযুক্ত কর্মকর্তাবর্তমান অবস্থা
সাবেক প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনাপলাতক
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টামেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকপলাতক
সাবেক ডিজি (DGFI)লে. জেনারেল (অব.) সাইফুল আলমসহ ৫ জনপলাতক
সাবেক পরিচালকমে. জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেনগ্রেপ্তার
সাবেক পরিচালকব্রি. জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকীগ্রেপ্তার

আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে একটি বড় অগ্রগতি অর্জিত হলো। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে গুম ও রাষ্ট্রীয় মদদে হওয়া নির্যাতনের রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।