ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে হাসিনা এবং ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু, সাক্ষ্য দেবেন হুম্মাম কাদের ও হাসিনুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে।

মামলার প্রথম দিনে, আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। এই বিচার প্রক্রিয়াটি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) সংঘটিত alleged গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর, অভিযুক্ত ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের পর প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী শাইখ মাহদী বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে গুমের বিচার এই প্রথম শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি পৃথক অভিযোগে চার্জ গঠন করেছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের “আয়নাঘর” নামক স্থানে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৬ জনকে গুম করে রাখা হয়েছিল এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনা এবং সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই চার্জ গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছে।

এই মামলায় বর্তমানে তিনজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এছাড়াও, পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

অন্যান্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গত ৭ ডিসেম্বর, অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের কীভাবে তুলে নিয়ে গুম করা হতো এবং তাদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালানো হতো, তার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।

এই শুনানির পর, চিফ প্রসিকিউটর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে হাসিনা এবং ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু, সাক্ষ্য দেবেন হুম্মাম কাদের ও হাসিনুর

আপডেট সময় : ১০:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে।

মামলার প্রথম দিনে, আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। এই বিচার প্রক্রিয়াটি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) সংঘটিত alleged গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর, অভিযুক্ত ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের পর প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী শাইখ মাহদী বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে গুমের বিচার এই প্রথম শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি পৃথক অভিযোগে চার্জ গঠন করেছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের “আয়নাঘর” নামক স্থানে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৬ জনকে গুম করে রাখা হয়েছিল এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনা এবং সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই চার্জ গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছে।

এই মামলায় বর্তমানে তিনজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এছাড়াও, পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

অন্যান্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গত ৭ ডিসেম্বর, অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের কীভাবে তুলে নিয়ে গুম করা হতো এবং তাদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালানো হতো, তার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।

এই শুনানির পর, চিফ প্রসিকিউটর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে।