মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘ছাত্রলীগ’-এর শীর্ষ দুই নেতা সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই মামলার অভিযুক্তরা হলেন সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য পাঁচজন হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
রোববার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রসিকিউশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায়।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী লোকমান হাওলাদার এবং ইশরাত জাহান তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তারা যথাযথ তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২২ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর পূর্বে গত ৮ জানুয়ারি অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও তারা আদালতে হাজির হননি। পরবর্তীতে, পলাতক বিবেচনায় অভিযুক্তদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
একইসাথে, পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। এই পরিস্থিতিতে, গত ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ধারাগুলো পাঠ শেষে সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। এরপর অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















