জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গত ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালায় তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই সহিংসতায় ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুল হাসান সৈকতসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারান।
পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও পুলিশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এ ছাড়া বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলাটির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
এদিন সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে জানান, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে নৃশংসতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আসামিদের প্রত্যক্ষ উসকানি, প্ররোচনা এবং উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছি।”
আদালত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে এবং ওই দিনের মধ্যে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















