ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে রাতভর আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের চালক ও দুই সহযোগীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—বাসচালক আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী রাব্বি (২১) ও সাগর (২৪)। ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকার মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ছাত্রী সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সাভার পরিবহন’ নামের একটি বাসে ওঠেন। সে সময় বাসটিতে আরও দু’জন যাত্রী ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে বাসের চালক ও সহকারীরা মিলে ওই ছাত্রীকে জিম্মি করে। প্রথমে তারা ভুক্তভোগীর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর বাসটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতভর ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। বর্বরতার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখে বলে জানা গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি দীর্ঘক্ষণ সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। হাইওয়ে টহল পুলিশের সন্দেহ হলে তারা বাসটিতে তল্লাশি চালায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের অসহযোগিতা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য গ্রহণ কিংবা আসামিদের ছবি তুলতে পুলিশ বাধা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























