ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এতে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিতে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। পাশাপাশি গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মালিক-চালকেরা। খোদ রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও নিম্নচাপের কারণে খুব সামান্যই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ কম। তার ওপর মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পগ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকেরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন। শিগগিরই তাদের দাবি দাওয়া মেনে না নিলে লাগাতার ধর্মঘটেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দেশব্যাপী গ্যাসের তীব্র সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এই চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তবে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৭৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে, যা গ্যাসের সংকট আরও তীব্র করেছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকেরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি দখল, ঘুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজের গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

দেশজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

আপডেট সময় : ১০:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এতে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিতে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। পাশাপাশি গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মালিক-চালকেরা। খোদ রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও নিম্নচাপের কারণে খুব সামান্যই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ কম। তার ওপর মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পগ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকেরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন। শিগগিরই তাদের দাবি দাওয়া মেনে না নিলে লাগাতার ধর্মঘটেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দেশব্যাপী গ্যাসের তীব্র সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এই চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তবে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৭৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে, যা গ্যাসের সংকট আরও তীব্র করেছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকেরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।