ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, মাচাদোর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলেও দেশটির জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন মাচাদোর পক্ষে নেই। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্বার্থ বিবেচনা করে তিনি মাদুরো প্রশাসনের উপপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন জোরালো করার লক্ষ্যে ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো তার অর্জিত নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, মাচাদো যদি তাকে এই পুরস্কার দিতে চান, তবে সেটি গ্রহণ করা তার জন্য সম্মানের বিষয় হবে। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পুরস্কার কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য বা ভাগাভাগি করার সুযোগ নেই। পদক হাতবদল হলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অপরিবর্তিত থাকে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটকের লক্ষ্যে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের পর এটিই ছিল ট্রাম্প ও মাচাদোর মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। গণমাধ্যমের অনুপস্থিতিতে আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প দেশটিতে পুনরায় নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
বৈঠক শেষে মাচাদো হোয়াইট হাউসের বাইরে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসা এই নেত্রী গত মাসে নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি কার্যত নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং এখনো দেশে ফেরেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে মাদুরো ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করে আসছে বিরোধীরা, যাকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং সমুদ্রপথে একাধিক জ্বালানি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে। এদিকে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে মার্কিন অভিযানের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কিউবার বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রো সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মার্কিন অভিযানে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















