সম্প্রতি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি একটি মন্তব্য করেছেন যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশ হতে দেওয়া হবে না’। এই কথাটি শুনতে প্রথমে বাংলাদেশবিরোধী কিংবা অবজ্ঞাসূচক মনে হতে পারে, কিন্তু একটু গভীরে তাকালে বোঝা যায় এটি আসলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার এক রূঢ় প্রতিফলন। সুশীলা কারকির এই বক্তব্যে বাংলাদেশ মূলত দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার একটি প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তাও বটে।
দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশ—তিনটি দেশই প্রায় কাছাকাছি সময়ে গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে এবং নেপালও আগামী ৫ মার্চ নির্বাচনের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং কথায় কথায় ‘মব কালচার’ এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সুশীলা কারকি তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি ‘আকস্মিক ঝড়’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন যে, ঝড়ের কাজ শেষ হলে দ্রুত স্থিতি ফেরানোই আসল চ্যালেঞ্জ। তিনি মূলত নেপালকে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাহীনতার হাত থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আমাদের জন্য বিবেকের আয়নার সামনে দাঁড়ানোর এক উপলক্ষ। এক সময় যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির উদাহরণ ছিল, আজ সেই দেশের নাম যদি প্রতিবেশী দেশে ‘নেতিবাচক সতর্কবার্তা’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তার দায় আমাদেরই নিতে হবে। এটি কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস কেবল হতাশার নয়; এই দেশ বহুবার সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই কারকির মন্তব্যকে অবজ্ঞা না ধরে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে বাংলাদেশ পুনরায় প্রমাণ করতে পারবে যে সে কোনো দেশের জন্য ভয়ের কারণ নয়, বরং গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রিপোর্টারের নাম 

























