ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অনড় ট্রাম্প প্রশাসন, ওয়াশিংটনকে বোঝাতে ব্যর্থ ডেনমার্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা এবং এ সংক্রান্ত অনড় অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ডেনমার্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের মনোভাব পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

বুধবার হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক ও দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করতেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টতই গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করছেন। তিনি জানান, ডেনমার্কের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ডেনিশ স্বার্থের পরিপন্থী। গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলটি দখল করার প্রয়োজনীয়তা ডেনমার্ক কোনোভাবেই দেখছে না।

ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আবেগঘন ইস্যু। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ডেনিশ সেনারা মার্কিন বাহিনীর পাশে থেকে জীবন দিয়েছে। ফলে ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে উপেক্ষা করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তবে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে উভয় পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। এই কমিটি উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করবে বলে জানান রাসমুসেন।

উল্লেখ্য, এই বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে তার এই প্রচেষ্টায় ন্যাটোর সমর্থন পাওয়া উচিত। যদিও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এই ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশেই অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কৌশলগত সুরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে হত্যা মামলা

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অনড় ট্রাম্প প্রশাসন, ওয়াশিংটনকে বোঝাতে ব্যর্থ ডেনমার্ক

আপডেট সময় : ০২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা এবং এ সংক্রান্ত অনড় অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ডেনমার্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের মনোভাব পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

বুধবার হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক ও দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করতেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টতই গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করছেন। তিনি জানান, ডেনমার্কের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ডেনিশ স্বার্থের পরিপন্থী। গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলটি দখল করার প্রয়োজনীয়তা ডেনমার্ক কোনোভাবেই দেখছে না।

ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আবেগঘন ইস্যু। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ডেনিশ সেনারা মার্কিন বাহিনীর পাশে থেকে জীবন দিয়েছে। ফলে ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে উপেক্ষা করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তবে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে উভয় পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। এই কমিটি উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করবে বলে জানান রাসমুসেন।

উল্লেখ্য, এই বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে তার এই প্রচেষ্টায় ন্যাটোর সমর্থন পাওয়া উচিত। যদিও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এই ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশেই অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কৌশলগত সুরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।