আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। দেশটির সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ‘নেপালি কংগ্রেস’ আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের একটি বিদ্রোহী অংশ সর্বসম্মতিক্রমে তরুণ নেতা গগন থাপাকে তাদের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন হিমালয় কন্যা নেপালের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এক আবেগঘন বক্তব্যে নবনির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, “নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি ঐতিহাসিক দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া অনেক বড় সম্মানের। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং অঙ্গীকার করছি যে, জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
এই ভাঙনের ফলে আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে দলের ঐতিহ্যবাহী ‘গাছ’ প্রতীক এবং দলীয় পতাকা কোন পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেপালের নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই জানিয়েছেন, তারা এ সংক্রান্ত নথিপত্র পেয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। তবে দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে সংস্কার ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিদ্রোহী নেতারা। এ নিয়ে বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। একপর্যায়ে দেউবা পক্ষ থেকে গগন থাপাসহ দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিদ্রোহী অংশটি আলাদা কমিটি গঠন করে।
৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এর আগে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে আসার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হন। ওই বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার একটি ‘সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত’ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজন দেশটিকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















