বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সেই মালিকানার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকট, চালের ঊর্ধ্বগতি এবং জননিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে গৃহিণীরা মধ্যযুগীয় মাটির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দাম ও দুষ্প্রাপ্যতা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপের বদলে কেবল দায়সারা বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ যখন গ্যাসের হাহাকারে দিশেহারা, তখন সরকারের নীতিনির্ধারকদের নির্বাচনি প্রচার ও অন্যান্য তাত্ত্বিক বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা চরমে। আসন্ন ধান কাটার মৌসুমের আগেই চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালের বাজার অস্থির হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নজিরবিহীন। ওষুধের বাজারেও সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করলেও বাস্তবে তা নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। ঔষধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকবলের অভাবের সেই পুরোনো অজুহাত দেওয়া হলেও নাগরিকরা ওষুধের উচ্চমূল্যের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের জনবিচ্ছিন্নতা এবং আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা সমস্যার সমাধানকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি দেশে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পাড়া-মহল্লা থেকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সবই এখন মব সন্ত্রাস ও নীরব চাঁদাবাজির কবলে। চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলা বা হত্যার হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তুচ্ছ কারণে বা ব্যক্তিগত আক্রোশে বাসাবাড়িতে ঢুকে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে না। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনি প্রচারণায় প্রার্থীরা উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রুতি দেবেন, কিন্তু বর্তমানে দিশেহারা জনগণের প্রশ্ন—রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে তাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা কবে নিশ্চিত হবে? সাধারণ মানুষ আজ সেই ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়, যেখানে তারা নিজেদের রাষ্ট্রের প্রকৃত সেবক নয়, বরং প্রকৃত অংশীদার হিসেবে অনুভব করতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 
























