ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

শুল্ক বাধা পেরিয়েও চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত একের পর এক শুল্কনীতির মুখেও চীন তার রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে। গত বছর চীন প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন করেছে, যা পূর্বের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার প্রকাশিত শুল্ক বিভাগের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্যানুসারে, গত বছর চীনের মোট রপ্তানি ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি পূর্ববর্তী বছরের (২০২৪) ৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হারের তুলনায় সামান্য কম হলেও সার্বিকভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে, তবে বেইজিং অন্যান্য দেশের বাজারে তাদের পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

শুল্ক বিভাগের তথ্য আরও বলছে, বেইজিংয়ের আমদানি গত বছর ২.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল ছিল। এর ফলে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৯৯২ বিলিয়ন ডলার।

আমেরিকার আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির প্রতিক্রিয়ায় চীন তার বাজার সম্প্রসারণের কৌশল পরিবর্তন করে। তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারগুলোতে অধিক মনোযোগ দেয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনের রপ্তানি গত ডিসেম্বর মাসে ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নভেম্বরের ৫.৯ শতাংশের চেয়ে বেশি। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা এই প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

একই সময়ে, চীনের আমদানিও ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বের মাসের ১.৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই হার ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। নভেম্বরে প্রথমবারের মতো চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল এবং গত বছরের প্রথম ১১ মাসে এই ব্যবধান ১.০৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

তবে, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২৪ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে মস্কোতে চীনের তৈরি গাড়ির চাহিদাও কমে গেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চীনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের শুল্ক প্রশাসনের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য বৃদ্ধির গতি এখনো পর্যাপ্ত নয় এবং চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিও খুব অনুকূল নয়। তা সত্ত্বেও, চীনের রপ্তানি বাণিজ্য নতুন রেকর্ড স্থাপন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

শুল্ক বাধা পেরিয়েও চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড

আপডেট সময় : ১০:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত একের পর এক শুল্কনীতির মুখেও চীন তার রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে। গত বছর চীন প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন করেছে, যা পূর্বের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার প্রকাশিত শুল্ক বিভাগের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্যানুসারে, গত বছর চীনের মোট রপ্তানি ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি পূর্ববর্তী বছরের (২০২৪) ৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হারের তুলনায় সামান্য কম হলেও সার্বিকভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে, তবে বেইজিং অন্যান্য দেশের বাজারে তাদের পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

শুল্ক বিভাগের তথ্য আরও বলছে, বেইজিংয়ের আমদানি গত বছর ২.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল ছিল। এর ফলে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৯৯২ বিলিয়ন ডলার।

আমেরিকার আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির প্রতিক্রিয়ায় চীন তার বাজার সম্প্রসারণের কৌশল পরিবর্তন করে। তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারগুলোতে অধিক মনোযোগ দেয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনের রপ্তানি গত ডিসেম্বর মাসে ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নভেম্বরের ৫.৯ শতাংশের চেয়ে বেশি। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা এই প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

একই সময়ে, চীনের আমদানিও ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বের মাসের ১.৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই হার ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। নভেম্বরে প্রথমবারের মতো চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল এবং গত বছরের প্রথম ১১ মাসে এই ব্যবধান ১.০৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

তবে, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২৪ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে মস্কোতে চীনের তৈরি গাড়ির চাহিদাও কমে গেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চীনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের শুল্ক প্রশাসনের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য বৃদ্ধির গতি এখনো পর্যাপ্ত নয় এবং চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিও খুব অনুকূল নয়। তা সত্ত্বেও, চীনের রপ্তানি বাণিজ্য নতুন রেকর্ড স্থাপন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।