ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানের পর আট মাস আত্মগোপনে ছিলেন ড. মোমেন, ছদ্মবেশে দেশ ছাড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাকা: ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোটে’ নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সদ্য সমাপ্ত গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণের মামলার আসামি ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর প্রায় আট মাস তিনি দেশের অভ্যন্তরেই ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে গোপন পথে দেশ ছাড়েন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে ড. মোমেন তার আত্মগোপন, ছদ্মবেশ ধারণ এবং দেশ ত্যাগের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার পতনের পর অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এই সময়ে তিনি একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন, ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম বদলান এবং নিজের চেহারাতেও পরিবর্তন আনেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই ড. মোমেন ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

টক শোতে নিজের আত্মগোপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেখানে থাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেন এবং নাপিত আনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন।

ড. মোমেন আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তার স্ত্রীই করেন। পাশাপাশি আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি। ঠিক কোন পথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েকদিন পর দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়। পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি “একটি সিনেমার গল্পের মতো” বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে দেশ ছাড়াদের মধ্যে শেষ দিকের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন।

সবশেষে ড. মোমেন জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কোনো অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ছিলেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

গণ-অভ্যুত্থানের পর আট মাস আত্মগোপনে ছিলেন ড. মোমেন, ছদ্মবেশে দেশ ছাড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা: ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোটে’ নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সদ্য সমাপ্ত গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণের মামলার আসামি ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর প্রায় আট মাস তিনি দেশের অভ্যন্তরেই ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে গোপন পথে দেশ ছাড়েন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে ড. মোমেন তার আত্মগোপন, ছদ্মবেশ ধারণ এবং দেশ ত্যাগের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার পতনের পর অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এই সময়ে তিনি একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন, ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম বদলান এবং নিজের চেহারাতেও পরিবর্তন আনেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই ড. মোমেন ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

টক শোতে নিজের আত্মগোপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেখানে থাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেন এবং নাপিত আনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন।

ড. মোমেন আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তার স্ত্রীই করেন। পাশাপাশি আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি। ঠিক কোন পথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েকদিন পর দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়। পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি “একটি সিনেমার গল্পের মতো” বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে দেশ ছাড়াদের মধ্যে শেষ দিকের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন।

সবশেষে ড. মোমেন জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কোনো অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ছিলেন না।