গাজীপুরের টঙ্গীতে দুটি পোশাক কারখানায় বুধবার সকালে ফের শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বমি ও খিঁচুনিসহ নানা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল এবং গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে টঙ্গীর মেঘনা রোড এলাকার এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ এবং আলম টাওয়ারের ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেডের কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ব্রাভো অ্যাপারেলসের কর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কারখানার পঞ্চম তলায় হঠাৎ এক ধরনের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই শ্রমিকেরা বমি ও মাথাব্যথা নিয়ে অসুস্থ হতে শুরু করেন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরে কর্মরত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের কর্মীরা জানান, গত দুই দিন আগেও কারখানার বেশ কিছু কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছিল। গতকালও কারখানার কয়েকটি ফ্লোর বন্ধ ছিল। আজ সকালে কাজ শুরু হওয়ার পর আবারও বেশ কিছু কর্মী বমি ও খিঁচুনি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
উভয় কারখানা থেকে অসুস্থ কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে নয়ন তারা, শাপলা, তাছলিমা, মারজান, ফুল বানু, লিমা, শারমিন, নাজমুল, ডলি, আলিসা, লিজা, কোহিনূর, শেফালি, আসমা, মনিরা, হৃদয়, মেহেদী, নাছিমা, রিয়া, কিরণ দাস, সুমা, শাহ আলম, নাদিরা, শিউলী ও জান্নাতসহ অন্তত পঁচিশ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্রাভো অ্যাপারেলসের কর্মী সুমা বলেন, “কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে কারখানায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ শুরু হয়। এরপরই বমি ও মাথাব্যথা শুরু হলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।”
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানা জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ পোশাককর্মী ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু কর্মী শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। অসুস্থ পোশাককর্মীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে বমি ও খিঁচুনি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে উভয় কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রিপোর্টারের নাম 
























