ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করার জন্য আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে একটি চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই চিঠির খসড়া তৈরির কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে আটক হওয়া বাংলাদেশের ২৪ জন নাগরিকের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই আটকাবস্থায় আব্দুল হামিদ (৪৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মারাও গেছেন। বাকিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরও আমিরাতের আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে সাধারণ ক্ষমা করার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই বছর ২২ জুলাই দুবাইয়ের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আটক এই ৫৭ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ১১ বছর এবং ৫৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তখন তাদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে নিযুক্ত করে।

এরপর ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, তাদের মুক্তির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আমিরাতের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আমিরাত সরকার ওই ৫৭ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা ঘোষণা করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তখন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ করায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে সম্মান জানিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, গত বছরের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের টেলিফোনে কথা হয় এবং সেখানে মূলত ৫৭ জনের শাস্তি মওকুফের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট তার সেই অনুরোধ রাখেন। এরপরই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

চলতি বছরের ৯ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, এরই মধ্যে ১৮৮ জন বন্দি মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, বাকি ২৫ জনও খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, “আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই তারা দেশে ফিরতে পারবেন।”

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এই বছরের ২২ এপ্রিল আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অবশিষ্ট বন্দিদের মুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয়। এরপর মে মাসে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে আগে মুক্তি পাওয়া ১৮৮ জন বাংলাদেশির উদাহরণ টেনে বর্তমানে আটক ২৫ জনের মুক্তির আহ্বান জানান।

কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১ জুলাই দূতাবাস থেকে নতুন নোট ভারবালের মাধ্যমে বন্দিদের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮ জুলাই আমিরাতের আইন সংস্থা হামদান আল কাবি ল ফার্মকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়। ল ফার্ম জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্টেট সিকিউরিটি আইনে মামলা থাকায় মুক্তির প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দূতাবাসকে নিয়মিত জানাচ্ছে।

এদিকে গত ৭ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবুধাবিতে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ২৫ জন বন্দির বিস্তারিত তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি হস্তান্তর করেন। বন্দিদের মুক্তি ত্বরান্বিত করতে গত ২১ সেপ্টেম্বর আমিরাতের ন্যায়বিচারমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন সুলতান বিন আওয়াদ আল নুয়াইমির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

এর প্রতিক্রিয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫ জন বন্দির পাসপোর্ট কপি ও ভিসা নম্বর চেয়ে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দূতাবাস দ্রুততার সঙ্গে সব তথ্য সংগ্রহ করে ৩০ সেপ্টেম্বর নোট ভারবাল আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, গত ২০ অক্টোবর একটি চিঠি প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। চিঠি দ্রুতই ড্রাফট করা হচ্ছে। এটি শেষ হওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন।

উল্লেখ্য, ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে ড. ইউনূস সাজা বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্টের উদার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তে জড়িতদের পরিবারসহ বাংলাদেশের বৃহত্তর দেশবাসী ও আমিরাতে থাকা নাগরিকরা স্বস্তি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রকাশ করেন এবং প্রবাসীদের স্বাগতিক দেশের আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করার জন্য আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে একটি চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই চিঠির খসড়া তৈরির কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে আটক হওয়া বাংলাদেশের ২৪ জন নাগরিকের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই আটকাবস্থায় আব্দুল হামিদ (৪৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মারাও গেছেন। বাকিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরও আমিরাতের আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে সাধারণ ক্ষমা করার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই বছর ২২ জুলাই দুবাইয়ের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আটক এই ৫৭ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ১১ বছর এবং ৫৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তখন তাদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে নিযুক্ত করে।

এরপর ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, তাদের মুক্তির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আমিরাতের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আমিরাত সরকার ওই ৫৭ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা ঘোষণা করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তখন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ করায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে সম্মান জানিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, গত বছরের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের টেলিফোনে কথা হয় এবং সেখানে মূলত ৫৭ জনের শাস্তি মওকুফের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট তার সেই অনুরোধ রাখেন। এরপরই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

চলতি বছরের ৯ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, এরই মধ্যে ১৮৮ জন বন্দি মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, বাকি ২৫ জনও খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, “আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই তারা দেশে ফিরতে পারবেন।”

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এই বছরের ২২ এপ্রিল আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অবশিষ্ট বন্দিদের মুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয়। এরপর মে মাসে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে আগে মুক্তি পাওয়া ১৮৮ জন বাংলাদেশির উদাহরণ টেনে বর্তমানে আটক ২৫ জনের মুক্তির আহ্বান জানান।

কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১ জুলাই দূতাবাস থেকে নতুন নোট ভারবালের মাধ্যমে বন্দিদের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮ জুলাই আমিরাতের আইন সংস্থা হামদান আল কাবি ল ফার্মকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়। ল ফার্ম জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্টেট সিকিউরিটি আইনে মামলা থাকায় মুক্তির প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দূতাবাসকে নিয়মিত জানাচ্ছে।

এদিকে গত ৭ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবুধাবিতে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ২৫ জন বন্দির বিস্তারিত তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি হস্তান্তর করেন। বন্দিদের মুক্তি ত্বরান্বিত করতে গত ২১ সেপ্টেম্বর আমিরাতের ন্যায়বিচারমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন সুলতান বিন আওয়াদ আল নুয়াইমির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

এর প্রতিক্রিয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫ জন বন্দির পাসপোর্ট কপি ও ভিসা নম্বর চেয়ে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দূতাবাস দ্রুততার সঙ্গে সব তথ্য সংগ্রহ করে ৩০ সেপ্টেম্বর নোট ভারবাল আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, গত ২০ অক্টোবর একটি চিঠি প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। চিঠি দ্রুতই ড্রাফট করা হচ্ছে। এটি শেষ হওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন।

উল্লেখ্য, ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে ড. ইউনূস সাজা বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্টের উদার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তে জড়িতদের পরিবারসহ বাংলাদেশের বৃহত্তর দেশবাসী ও আমিরাতে থাকা নাগরিকরা স্বস্তি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রকাশ করেন এবং প্রবাসীদের স্বাগতিক দেশের আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করার প্রতিশ্রুতি দেন।