আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অপপ্রচার মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পিআইবি ভবনে ‘ট্রেনিং অন ভেরিফিকেশন টুলস, এআই অ্যান্ড ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি ফর সিনিয়র জার্নালিস্টস’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ব্যালট’ নির্বাচনি প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
পিআইবির এই উদ্যোগের অধীনে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের অন্তত দুই হাজার ৫০০ জন সাংবাদিককে ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ঢাকা ছাড়াও আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাজধানীর কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রায় ৩০ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনের আগে ‘ডিপফেক’ ভিডিও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর আধেয় (কনটেন্ট) এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার শনাক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মূলত নিউজরুমগুলোতে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপপ্রচারের হুমকি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রস্তুত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ডিসইনফরমেশন বিশেষজ্ঞ এবং কৌশলগত যোগাযোগ উপদেষ্টা আনাস বেন্ড্রিফ। তিনি সাংবাদিকদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবহারিক টুলস, ‘এবিসিডিই’ কাঠামো এবং বিভিন্ন কেস স্টাডির মাধ্যমে অনুসন্ধানমূলক কৌশলসমূহ হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন।
এর আগে সকালে পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম যেন এ ধরনের অপপ্রচারের বিষয়ে সজাগ থেকে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সাংবাদিকদের এই আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে গুজবমুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























