ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আসন ভাগাভাগিতে জটিলতা: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙনের মুখে

দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতৃত্বাধীন এই জোটে আসন বণ্টনে এক ডজনেরও বেশি আসনে নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে অন্য দলগুলোর জন্য ছাড় দিতে রাজি হলেও, তা সত্ত্বেও সমঝোতার পথ সুগম হচ্ছে না। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উচ্চাকাঙ্ক্ষী দাবির কারণে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক আসন সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবে ইসলামী আন্দোলন সন্তুষ্ট নয়। তাদের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে এবং এই কারণে তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি জামায়াত ৪০টি আসনের বাইরেও কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে তাতেও রাজি না হওয়ায় জোট ভাঙনের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। সূত্রমতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দল দুটি শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

মঙ্গলবার ১১ দলের যৌথভাবে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সফল হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পূর্বে আট দলীয় ইসলামি জোটের ব্যানারে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছিল। তবে, সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই এই জোটে ইসলামি দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। আসন কম পাওয়ার আশঙ্কায় তারা জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারাতে থাকে। তারা বুঝতে পারে যে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরদিনই দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, সময় কম পাওয়ায় এমনটি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। জামায়াত এনসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় এবং এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তা মেনে নেয়।

জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

রবিবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে, খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: প্রাণ হারাল ৮ শিশুসহ ১০ জন

আসন ভাগাভাগিতে জটিলতা: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙনের মুখে

আপডেট সময় : ১২:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতৃত্বাধীন এই জোটে আসন বণ্টনে এক ডজনেরও বেশি আসনে নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে অন্য দলগুলোর জন্য ছাড় দিতে রাজি হলেও, তা সত্ত্বেও সমঝোতার পথ সুগম হচ্ছে না। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উচ্চাকাঙ্ক্ষী দাবির কারণে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক আসন সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবে ইসলামী আন্দোলন সন্তুষ্ট নয়। তাদের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে এবং এই কারণে তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি জামায়াত ৪০টি আসনের বাইরেও কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে তাতেও রাজি না হওয়ায় জোট ভাঙনের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। সূত্রমতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দল দুটি শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

মঙ্গলবার ১১ দলের যৌথভাবে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সফল হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পূর্বে আট দলীয় ইসলামি জোটের ব্যানারে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছিল। তবে, সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই এই জোটে ইসলামি দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। আসন কম পাওয়ার আশঙ্কায় তারা জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারাতে থাকে। তারা বুঝতে পারে যে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরদিনই দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, সময় কম পাওয়ায় এমনটি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। জামায়াত এনসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় এবং এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তা মেনে নেয়।

জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

রবিবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে, খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।