রাজধানীর শের-ই-বাংলানগর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা ও হোমিও চিকিৎসক আনোয়ারুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রকৃত হত্যাকারী ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিবারসহ সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে ডা. আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ঢাকা মহানগরী উত্তরের শের-ই-বাংলানগর দক্ষিণ থানা জামায়াতের পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন।
জামায়াত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো সাধারণ চুরি বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। ভোররাতে একটি আবাসিক এলাকায় জানালার গ্রিল কেটে দীর্ঘ সময় ধরে বাসার ভেতরে অবস্থান করে একজনকে হত্যা করা এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রমাণ করে যে, জননিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এড়াতে পারে না।
নিহত আনোয়ারুল্লাহকে একজন মানবিক চিকিৎসক ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকারীদের কথোপকথন ও আচরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এটি কেবল লুটপাটের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























