ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন: ইসির ৩ শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তিনটি শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনসহ পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। সভায় শাকসু নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও এর বিপরীতে তিনটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্তগুলো হলো— নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটানো যাবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হতে দেওয়া যাবে না এবং এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন যেন জাতীয় নির্বাচনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এই শর্তসমূহ মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকারনামা দিলেই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা থাকবে না বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল রয়েছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজমান এই অচলাবস্থা নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির গেজেট প্রকাশ, শপথের প্রস্তুতি

শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন: ইসির ৩ শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তিনটি শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনসহ পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। সভায় শাকসু নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও এর বিপরীতে তিনটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্তগুলো হলো— নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটানো যাবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হতে দেওয়া যাবে না এবং এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন যেন জাতীয় নির্বাচনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এই শর্তসমূহ মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকারনামা দিলেই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা থাকবে না বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল রয়েছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজমান এই অচলাবস্থা নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।