ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা নিউরোসায়েন্সে, অবস্থা গুরুতর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে গুরুতর আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে একটি সংরক্ষিত সিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হুজাইফার জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭, যা তার সংকটাপন্ন অবস্থাকে নির্দেশ করে। তাকে বর্তমানে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের (মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন) অধীনে রাখা হয়েছে। নিউরোসায়েন্সেসের চিকিৎসকরা হুজাইফার জীবন বাঁচাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হুজাইফাকে এবং সেখানে দ্রুত তার অপারেশন করা হয়। গুলির কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের একপাশে চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে তার মাথার খুলির ডান পাশ অপারেশন করে খুলে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট, অ্যানেস্থেশিওলজিস্টসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড শিশুটিকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাতেই শিশুটিকে ঢাকায় আনা হয়।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরসার মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। সীমান্ত এলাকার ব্যাপক গোলাগুলির প্রভাব এপারেও পড়ছিল। সেদিন সকালেই হোয়াইক্যং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর জখম হয় শিশু হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সেদিনই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিন রাতেই মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা গুলিটি বের করার চেষ্টা করে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির গেজেট প্রকাশ, শপথের প্রস্তুতি

মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা নিউরোসায়েন্সে, অবস্থা গুরুতর

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে গুরুতর আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে একটি সংরক্ষিত সিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হুজাইফার জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭, যা তার সংকটাপন্ন অবস্থাকে নির্দেশ করে। তাকে বর্তমানে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের (মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন) অধীনে রাখা হয়েছে। নিউরোসায়েন্সেসের চিকিৎসকরা হুজাইফার জীবন বাঁচাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হুজাইফাকে এবং সেখানে দ্রুত তার অপারেশন করা হয়। গুলির কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের একপাশে চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে তার মাথার খুলির ডান পাশ অপারেশন করে খুলে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট, অ্যানেস্থেশিওলজিস্টসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড শিশুটিকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাতেই শিশুটিকে ঢাকায় আনা হয়।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরসার মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। সীমান্ত এলাকার ব্যাপক গোলাগুলির প্রভাব এপারেও পড়ছিল। সেদিন সকালেই হোয়াইক্যং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর জখম হয় শিশু হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সেদিনই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিন রাতেই মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা গুলিটি বের করার চেষ্টা করে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি।