ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনি আসন সমঝোতা চূড়ান্ত: আজ ১১ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে যাচ্ছে আজ। বুধবার বিকেল চারটায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটবদ্ধ লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর শরিক দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এসব বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কিছু কারিগরি কাজ বাকি থাকায় আজ দুপুরের আগে আরও এক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠক শেষেই বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। যেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, আসন বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও দরকষাকষি হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে। দলটি ৭০টির বেশি আসনের দাবি জানালেও বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী তাদের জন্য ৪৫টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা নিয়ে দলটির ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা এই প্রক্রিয়ায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক চললেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে জামায়াত সূত্র প্রত্যাশা করছে, সব বিভেদ কাটিয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে। যদি কোনো কারণে তারা যোগ না দেয়, তবে বাকি দলগুলো নিয়েই এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে।

অন্যান্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য ৩০টি আসন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর জন্য ১৮০টির বেশি আসন রাখা হয়েছে বলে জোটের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও নেজামে ইসলাম পার্টির মতো দলগুলোর আসনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করা হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে যা বুধবার দুপুরের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে প্রথমে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও একটি দল যুক্ত হয়ে এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতার কারণে এতদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিলম্বিত হলেও আজ তা চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক ‘হুজ হু’ সম্মাননায় ভূষিত গাকৃবি উপাচার্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান

নির্বাচনি আসন সমঝোতা চূড়ান্ত: আজ ১১ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০১:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে যাচ্ছে আজ। বুধবার বিকেল চারটায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটবদ্ধ লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর শরিক দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এসব বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কিছু কারিগরি কাজ বাকি থাকায় আজ দুপুরের আগে আরও এক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠক শেষেই বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। যেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, আসন বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও দরকষাকষি হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে। দলটি ৭০টির বেশি আসনের দাবি জানালেও বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী তাদের জন্য ৪৫টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা নিয়ে দলটির ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা এই প্রক্রিয়ায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক চললেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে জামায়াত সূত্র প্রত্যাশা করছে, সব বিভেদ কাটিয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে। যদি কোনো কারণে তারা যোগ না দেয়, তবে বাকি দলগুলো নিয়েই এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে।

অন্যান্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য ৩০টি আসন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর জন্য ১৮০টির বেশি আসন রাখা হয়েছে বলে জোটের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও নেজামে ইসলাম পার্টির মতো দলগুলোর আসনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করা হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে যা বুধবার দুপুরের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে প্রথমে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও একটি দল যুক্ত হয়ে এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতার কারণে এতদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিলম্বিত হলেও আজ তা চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।