ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দালালদের দৌরাত্ম্যে রাষ্ট্র সংস্কার থমকে আছে: মাহফুজ আলম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করেছেন যে, দেশে দালালচক্র বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং গণমাধ্যমও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ আলম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য সংঘটিত হয়নি, বরং সবার জন্য একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিদেশ থেকে অর্থ আনার বিষয়টি তো দূরে থাক, দেশেই দালালরা সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং গণমাধ্যম পরিচালনা করছে। এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। পুরাতন ব্যবস্থার অনুসারীদের বহাল রেখে নতুন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেষ চার মাস তাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সম্পদের পুনর্বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহফুজ আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা মূলত ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস। সম্পদের সুষম বণ্টন, বিশেষ করে জমির সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদে’ চুক্তিবদ্ধ হয়, তাহলে কেন বিপরীতমুখী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে? গণঅভ্যুত্থান দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিল, অথচ রাজনৈতিক দলগুলোই এখন আবার দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক ‘হুজ হু’ সম্মাননায় ভূষিত গাকৃবি উপাচার্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান

দালালদের দৌরাত্ম্যে রাষ্ট্র সংস্কার থমকে আছে: মাহফুজ আলম

আপডেট সময় : ১০:০২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করেছেন যে, দেশে দালালচক্র বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং গণমাধ্যমও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ আলম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য সংঘটিত হয়নি, বরং সবার জন্য একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিদেশ থেকে অর্থ আনার বিষয়টি তো দূরে থাক, দেশেই দালালরা সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং গণমাধ্যম পরিচালনা করছে। এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। পুরাতন ব্যবস্থার অনুসারীদের বহাল রেখে নতুন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেষ চার মাস তাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সম্পদের পুনর্বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহফুজ আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা মূলত ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস। সম্পদের সুষম বণ্টন, বিশেষ করে জমির সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদে’ চুক্তিবদ্ধ হয়, তাহলে কেন বিপরীতমুখী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে? গণঅভ্যুত্থান দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিল, অথচ রাজনৈতিক দলগুলোই এখন আবার দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।