ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডির ক্রিলিকের ৫ চুক্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গবেষণার পরিধি বাড়াতে পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এলজিইডির ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টার (ক্রিলিক)-এর তত্ত্বাবধানে এই চুক্তিগুলো গত মঙ্গলবার, ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সম্পাদিত হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণা, ডকুমেন্টেশন এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা করবে।

চুক্তি অনুযায়ী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান জ্ঞান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ভিডিও ডকুমেন্টারি এবং প্রিন্ট উপকরণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপত্র (ফ্যাক্টশিট) প্রস্তুত করা হবে। প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলোকে ছয়টি অ্যানিমেটেড ও ইন্টারেক্টিভ ই-লার্নিং কনটেন্টে রূপান্তরিত করা হবে, যা জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য র‌্যাপিড ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করা হবে। একই সাথে, জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মানদণ্ড, পদ্ধতি ও নির্দেশিকাগুলো সমন্বয় করা হবে। এই উদ্যোগের আওতায় গত ৩০ বছরের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, উপকূলীয় এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগের প্রকৃতি এবং ক্ষয়ক্ষতির হার সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার বিশদ বিশ্লেষণও করা হবে।

পাইলট জেলা হিসেবে বরগুনা, ভোলা ও সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে রাস্তা, কালভার্টসহ অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্ট বা বিশেষ মিশ্রণের মতো উপকরণগুলোর একটি সমন্বিত ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ক্রিলিকের পরিচালক সৈয়দা আসমা খাতুন, ক্রিম্প প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল খালেক, ক্রিলিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণালব্ধ তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী দুই বছর কঠিন সময়: কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডির ক্রিলিকের ৫ চুক্তি

আপডেট সময় : ০৯:১২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গবেষণার পরিধি বাড়াতে পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এলজিইডির ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টার (ক্রিলিক)-এর তত্ত্বাবধানে এই চুক্তিগুলো গত মঙ্গলবার, ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সম্পাদিত হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণা, ডকুমেন্টেশন এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা করবে।

চুক্তি অনুযায়ী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান জ্ঞান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ভিডিও ডকুমেন্টারি এবং প্রিন্ট উপকরণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপত্র (ফ্যাক্টশিট) প্রস্তুত করা হবে। প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলোকে ছয়টি অ্যানিমেটেড ও ইন্টারেক্টিভ ই-লার্নিং কনটেন্টে রূপান্তরিত করা হবে, যা জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য র‌্যাপিড ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করা হবে। একই সাথে, জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মানদণ্ড, পদ্ধতি ও নির্দেশিকাগুলো সমন্বয় করা হবে। এই উদ্যোগের আওতায় গত ৩০ বছরের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, উপকূলীয় এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগের প্রকৃতি এবং ক্ষয়ক্ষতির হার সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার বিশদ বিশ্লেষণও করা হবে।

পাইলট জেলা হিসেবে বরগুনা, ভোলা ও সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে রাস্তা, কালভার্টসহ অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্ট বা বিশেষ মিশ্রণের মতো উপকরণগুলোর একটি সমন্বিত ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ক্রিলিকের পরিচালক সৈয়দা আসমা খাতুন, ক্রিম্প প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল খালেক, ক্রিলিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণালব্ধ তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে।