ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে বাংলাদেশের তিন দিকের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল ও আধুনিকায়ন করছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিমানঘাঁটিগুলো মূলত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে থাকবে। চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সুরক্ষা জোরদারে এই বিমানঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব এবং ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ (Act East) নীতির একটি অংশ, যার লক্ষ্য পূর্বাঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।
সচল করা বিমানঘাঁটিগুলোতে আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং পরিবহন বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রানওয়ের সম্প্রসারণ, হ্যাঙ্গার নির্মাণ, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং অত্যাধুনিক রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। এসব বিমানঘাঁটি থেকে দ্রুত সময়ে বিমান মোতায়েন, নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা এবং রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশের পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে আসাম ও মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোতে এই বিমানঘাঁটিগুলো অবস্থিত। এই অবস্থানগুলো ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলি একদিকে যেমন বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, তেমনি অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘চিকেন’স নেক’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদারেও সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এর ফলে এই অঞ্চলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























