রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা। গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে তাকে গলাটিপে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আনোয়ারুল্লাহ (৬৫) পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি নিছক চুরি নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুজন ব্যক্তি চিকিৎসক আনোয়ারুল্লাহর বাসায় প্রবেশ করেন। তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করার পর বের হয়ে যান। যে গ্রিল কেটে তারা প্রবেশ করেছিল, সেটিই ছিল বাড়ির মূল প্রবেশপথ। ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে প্রবেশ করেই দুর্বৃত্তরা আনোয়ারুল্লাহকে গলাটিপে হত্যা করে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ডিবি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি চুরি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সম্মানিত সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার উল্লাহকে কিছু দুর্বৃত্ত গত সোমবার রাতে তার পশ্চিম রাজাবাজারস্থ নিজ বাসায় প্রবেশ করে হত্যা করেছে। দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জামায়াত আরও জানায়, নিহত আনোয়ার উল্লাহর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার লক্ষণপুর গ্রামে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন এবং ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ছিল।
রিপোর্টারের নাম 























