ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়: ভোটের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক শক্তি প্রতিষ্ঠায় ইশরাক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই ‘বাংলাদেশপন্থি’ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়ারীতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই এখন রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল, অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, সেই সময় তিনি কারাগারে থাকলেও সংবাদপত্র, ভিডিও এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা তিনি কোথাও দেখতে পাননি।

ইশরাক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে তারা ‘নতুন রিপাবলিক’সহ নানা কথা বলছে এবং তাদের এই দুঃসাহস কোথা থেকে আসে তা তিনি বুঝতে পারেন না। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস—এই দুটি দিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তাদের হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই বিষয়গুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এ দেশে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। ইশরাক হোসেন বলেন, এই কথাগুলো কঠিন হলেও যখন বারবার শোনা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল, তখন আর কতদিন সহ্য করা যায়? একবার-দুবার ভুল করে বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটা আর দুর্ঘটনা নয়, বরং বিশ্বাসে পরিণত হয়।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এ অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং এখানে সবার আগে একটি এজেন্ডাই বাস্তবায়িত হবে – ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেওয়া হবে না এবং নির্বাচনের পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী, গরিব—সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিয়ে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তারা গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চান এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে দেশের ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনে যদি আবার দেশ রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মকে সেই প্রস্তুতি দেওয়ার মতো একটি সংগঠন গড়ে তুলতে চান তারা।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। যারা বাংলাদেশ চায়নি, তাদের ষড়যন্ত্র ও দুঃসাহসকে পরাজিত করে দেশকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে, যাতে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইশরাক হোসেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নু সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক ‘হুজ হু’ সম্মাননায় ভূষিত গাকৃবি উপাচার্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়: ভোটের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক শক্তি প্রতিষ্ঠায় ইশরাক

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই ‘বাংলাদেশপন্থি’ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়ারীতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই এখন রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল, অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, সেই সময় তিনি কারাগারে থাকলেও সংবাদপত্র, ভিডিও এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা তিনি কোথাও দেখতে পাননি।

ইশরাক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে তারা ‘নতুন রিপাবলিক’সহ নানা কথা বলছে এবং তাদের এই দুঃসাহস কোথা থেকে আসে তা তিনি বুঝতে পারেন না। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস—এই দুটি দিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তাদের হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই বিষয়গুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এ দেশে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। ইশরাক হোসেন বলেন, এই কথাগুলো কঠিন হলেও যখন বারবার শোনা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল, তখন আর কতদিন সহ্য করা যায়? একবার-দুবার ভুল করে বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটা আর দুর্ঘটনা নয়, বরং বিশ্বাসে পরিণত হয়।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এ অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং এখানে সবার আগে একটি এজেন্ডাই বাস্তবায়িত হবে – ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেওয়া হবে না এবং নির্বাচনের পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী, গরিব—সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিয়ে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তারা গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চান এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে দেশের ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনে যদি আবার দেশ রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মকে সেই প্রস্তুতি দেওয়ার মতো একটি সংগঠন গড়ে তুলতে চান তারা।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। যারা বাংলাদেশ চায়নি, তাদের ষড়যন্ত্র ও দুঃসাহসকে পরাজিত করে দেশকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে, যাতে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইশরাক হোসেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নু সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।