ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে দেশে প্রথমবারের মতো ‘মুন অ্যালার্ট’ ও বিশেষ হেল্পলাইন চালু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে নিখোঁজ বা অপহৃত শিশুদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ। নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ বা ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন সিস্টেম’। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘১৩২১৯’ নামে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও উন্মোচন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা ও হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার এবং সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কবার্তা বা ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’-এর ধারণাটি অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের পর সেখানে প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে ইউরোপের ৩২টি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোতে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকেই বাংলাদেশে ‘মুন অ্যালার্ট’ প্রবর্তন করা হলো।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে যদি সঠিক তথ্যসহ দ্রুত সতর্কতা জারি করা যায়, তবে শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে শিশু মুনতাহা হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দেশে এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে সামনে নিয়ে আসে।

সিআইডির ‘মিসিং চিলড্রেন সেল’-এর নেতৃত্বে এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন প্লাটফর্ম’-এর কারিগরি সহায়তায় এই ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যৌক্তিক আশঙ্কা দেখা দিলে সিআইডি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি সতর্কতা জারি করবে। এই সতর্কবার্তা অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহায়তা পেতে নাগরিকরা এখন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল (০১৩২০০১৭০৬০) অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কতা জারি বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিআইডি। এছাড়া শিশু পাচারের আশঙ্কা থাকলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন’ (এনসিএমইসি) এবং মেটা-র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘মুন অ্যালার্ট’ চালুর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী দুই বছর কঠিন সময়: কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে দেশে প্রথমবারের মতো ‘মুন অ্যালার্ট’ ও বিশেষ হেল্পলাইন চালু

আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে নিখোঁজ বা অপহৃত শিশুদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ। নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ বা ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন সিস্টেম’। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘১৩২১৯’ নামে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও উন্মোচন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা ও হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার এবং সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কবার্তা বা ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’-এর ধারণাটি অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের পর সেখানে প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে ইউরোপের ৩২টি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোতে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকেই বাংলাদেশে ‘মুন অ্যালার্ট’ প্রবর্তন করা হলো।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে যদি সঠিক তথ্যসহ দ্রুত সতর্কতা জারি করা যায়, তবে শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে শিশু মুনতাহা হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দেশে এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে সামনে নিয়ে আসে।

সিআইডির ‘মিসিং চিলড্রেন সেল’-এর নেতৃত্বে এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন প্লাটফর্ম’-এর কারিগরি সহায়তায় এই ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যৌক্তিক আশঙ্কা দেখা দিলে সিআইডি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি সতর্কতা জারি করবে। এই সতর্কবার্তা অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহায়তা পেতে নাগরিকরা এখন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল (০১৩২০০১৭০৬০) অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কতা জারি বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিআইডি। এছাড়া শিশু পাচারের আশঙ্কা থাকলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন’ (এনসিএমইসি) এবং মেটা-র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘মুন অ্যালার্ট’ চালুর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।