রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় পাঁচজন চীনা নাগরিকসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ৫১ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির সাইবার উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার। তিনি জানান, ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে আসা বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশের ওয়েব-ভিত্তিক অপরাধ তদন্ত দল।
অভিযান প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস এবং ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ চীনা নাগরিক—চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ ও হুয়াং ঝেং জিয়াং এবং তাদের এক বাংলাদেশি সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিল। তারা ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অধিক মুনাফার প্রলোভন এবং ঘরে বসে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তারা পরবর্তী সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করত এবং অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত চীনা নাগরিকদের পাসপোর্ট ও ভিসার বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় তাদের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে বিশেষায়িত চীনা সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি সদস্যকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























