ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকট: ভোগান্তির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তীব্র গ্যাসসংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকরা মাসের পর মাস নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও চুলায় প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে গৃহিণীরা সময়মতো রান্না করতে পারছেন না। এই অসহনীয় পরিস্থিতি সামাল দিতে মানুষ এখন বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম ও মিরপুর এলাকার ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে রাইস কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সচ্ছল পরিবারগুলো ইলেকট্রিক কুকার কিনলেও স্বল্প আয়ের মানুষরা বাধ্য হয়ে মাটির চুলা ও লাকড়ি সংগ্রহ করছেন, যা শহুরে পরিবেশে নতুন এক বিড়ম্বনার জন্ম দিয়েছে।

গ্যাসসংকটের এই প্রভাব কেবল রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ফলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের মাসিক নির্দিষ্ট বিলের পাশাপাশি এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের মতে, নিয়মিত বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করলে একটি পরিবারে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ থাকায় অনেকেই হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই; এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহে ঘাটতির অজুহাতে অধিকাংশ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে।

পরিবহন খাতেও এই সংকটের ঢেউ লেগেছে। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমানে এলপিজির তীব্র আকালের কারণে দেশের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে। রাজধানীর অর্ধেকের বেশি স্টেশনে গ্যাস নেই বললেই চলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সিএনজি বা এলপিজি না পেয়ে যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপায়হীন হয়ে অনেক চালক তাদের যানবাহনে সিএনজির পরিবর্তে পেট্রোল বা অকটেনের মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভাড়ার ওপর। সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের এই বহুমুখী প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসার খোঁজে নিজেই প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে হাজির অসুস্থ কাক!

তীব্র গ্যাস সংকট: ভোগান্তির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তীব্র গ্যাসসংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকরা মাসের পর মাস নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও চুলায় প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে গৃহিণীরা সময়মতো রান্না করতে পারছেন না। এই অসহনীয় পরিস্থিতি সামাল দিতে মানুষ এখন বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম ও মিরপুর এলাকার ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে রাইস কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সচ্ছল পরিবারগুলো ইলেকট্রিক কুকার কিনলেও স্বল্প আয়ের মানুষরা বাধ্য হয়ে মাটির চুলা ও লাকড়ি সংগ্রহ করছেন, যা শহুরে পরিবেশে নতুন এক বিড়ম্বনার জন্ম দিয়েছে।

গ্যাসসংকটের এই প্রভাব কেবল রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ফলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের মাসিক নির্দিষ্ট বিলের পাশাপাশি এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের মতে, নিয়মিত বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করলে একটি পরিবারে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ থাকায় অনেকেই হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই; এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহে ঘাটতির অজুহাতে অধিকাংশ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে।

পরিবহন খাতেও এই সংকটের ঢেউ লেগেছে। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমানে এলপিজির তীব্র আকালের কারণে দেশের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে। রাজধানীর অর্ধেকের বেশি স্টেশনে গ্যাস নেই বললেই চলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সিএনজি বা এলপিজি না পেয়ে যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপায়হীন হয়ে অনেক চালক তাদের যানবাহনে সিএনজির পরিবর্তে পেট্রোল বা অকটেনের মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভাড়ার ওপর। সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের এই বহুমুখী প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।