ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে: টিআইবি’র ড. ইফতেখারুজ্জামান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে। তিনি মনে করেন, সংস্কারের নামে এমন সব আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে এবং পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো প্রয়োজন ছিল, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার কোনো প্রতিফলন নেই। যদিও সরকার শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়েছে, তবে এসব আইনি কাঠামোর বড় একটি অংশে ‘জুলাই সনদের’ মূল চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বরং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ড. ইফতেখারুজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার শুরু থেকেই সংস্কার-প্রতিরোধী অপশক্তির কাছে এক প্রকার আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করার পরিবর্তে তাদের চাপের মুখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও অভিযোগ করেন যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং পেছনের ক্ষমতার ভিত্তি বিবেচনা করে এক ধরনের ‘বাছাই পদ্ধতি’ বা অ্যাডহক ভিত্তিক নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারের পরিপন্থী আইন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। টিআইবি মনে করে, সংস্কার-প্রতিরোধী মহলের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামো তৈরি করতে না পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসার খোঁজে নিজেই প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে হাজির অসুস্থ কাক!

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে: টিআইবি’র ড. ইফতেখারুজ্জামান

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে। তিনি মনে করেন, সংস্কারের নামে এমন সব আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে এবং পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো প্রয়োজন ছিল, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার কোনো প্রতিফলন নেই। যদিও সরকার শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়েছে, তবে এসব আইনি কাঠামোর বড় একটি অংশে ‘জুলাই সনদের’ মূল চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বরং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ড. ইফতেখারুজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার শুরু থেকেই সংস্কার-প্রতিরোধী অপশক্তির কাছে এক প্রকার আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করার পরিবর্তে তাদের চাপের মুখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও অভিযোগ করেন যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং পেছনের ক্ষমতার ভিত্তি বিবেচনা করে এক ধরনের ‘বাছাই পদ্ধতি’ বা অ্যাডহক ভিত্তিক নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারের পরিপন্থী আইন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। টিআইবি মনে করে, সংস্কার-প্রতিরোধী মহলের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামো তৈরি করতে না পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।