ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষি শেষে আজ মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাতে লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শরিক দলগুলোর একক প্রার্থী ও আসন বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দলের সাথে কিছু নির্দিষ্ট আসন নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে আজ দুপুরে আবারও বৈঠকে বসবেন শীর্ষ নেতারা। সমঝোতা সফল হলে আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ইইউ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকেও নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে এসেছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই সমঝোতার একটি স্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে এবং বুধবার দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে জানানো হবে। ১১ দলীয় এই জোটে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বিডিপি। গত ২৮ ডিসেম্বর ১০ দলীয় সমঝোতার ঘোষণা আসার পর পরবর্তীতে এবি পার্টি যুক্ত হওয়ায় এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং জুলাই বিপ্লবের তরুণদের দল এনসিপি যুক্ত হওয়ায় এই জোট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টিরও বেশি আসনে লড়তে আগ্রহী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির কিছু বেশি এবং এনসিপি-কে ৩০টির মতো আসন নিশ্চিত করার আলোচনা চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৩টি, খেলাফত মজলিস ৮টি এবং এলডিপি ৭টি আসন পেতে পারে। তবে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সমঝোতা টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চলছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জিতে আসা’। তাই যে আসনে যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই ছাড় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে দু-একটি আসনে শরিকদের জন্য জামায়াত নিজেদের দাবি ছেড়ে দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আসন সমঝোতার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, কিছু শরিক দলের চাহিদা বেশি থাকায় কিছুটা সময় লাগছে, তবে আগামীকালকের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। যদি কোনো দল শেষ মুহূর্তে একমত হতে না পারে, তবে তাদের ছাড়াই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা কার্যকর হলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে এই জোট একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

আপডেট সময় : ০৩:২১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষি শেষে আজ মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাতে লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শরিক দলগুলোর একক প্রার্থী ও আসন বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দলের সাথে কিছু নির্দিষ্ট আসন নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে আজ দুপুরে আবারও বৈঠকে বসবেন শীর্ষ নেতারা। সমঝোতা সফল হলে আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ইইউ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকেও নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে এসেছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই সমঝোতার একটি স্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে এবং বুধবার দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে জানানো হবে। ১১ দলীয় এই জোটে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বিডিপি। গত ২৮ ডিসেম্বর ১০ দলীয় সমঝোতার ঘোষণা আসার পর পরবর্তীতে এবি পার্টি যুক্ত হওয়ায় এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং জুলাই বিপ্লবের তরুণদের দল এনসিপি যুক্ত হওয়ায় এই জোট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টিরও বেশি আসনে লড়তে আগ্রহী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির কিছু বেশি এবং এনসিপি-কে ৩০টির মতো আসন নিশ্চিত করার আলোচনা চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৩টি, খেলাফত মজলিস ৮টি এবং এলডিপি ৭টি আসন পেতে পারে। তবে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সমঝোতা টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চলছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জিতে আসা’। তাই যে আসনে যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই ছাড় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে দু-একটি আসনে শরিকদের জন্য জামায়াত নিজেদের দাবি ছেড়ে দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আসন সমঝোতার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, কিছু শরিক দলের চাহিদা বেশি থাকায় কিছুটা সময় লাগছে, তবে আগামীকালকের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। যদি কোনো দল শেষ মুহূর্তে একমত হতে না পারে, তবে তাদের ছাড়াই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা কার্যকর হলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে এই জোট একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।