দেশে চলমান রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আমদানিকারকরা দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট’-এর মাধ্যমে বাকিতে এলপিজি আমদানি করতে পারবেন। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানিকারকদের তারল্য সংকট কাটাতে এলপিজি-কে এখন থেকে ‘শিল্পের কাঁচামাল’ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারে বোতলজাত করা হয়। আমদানির পর তা সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ এবং বিতরণের মতো পরিচালন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আমদানিকারকদের উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এলপিজি ক্রেতার ঋণের অধীনে আমদানিযোগ্য একটি শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে আমদানিকারকরা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ২৭০ দিন বা ৯ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন, যা আগে শিল্প খাতের অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক নির্দেশনায় শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের এই ‘ইউজেন্স পিরিয়ড’ বা বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজি আমদানিকারকরাও এখন থেকে সেই একই সুবিধার আওতায় আসবেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডলার সংকটের কারণে এলপিজি আমদানিতে যে ধীরগতি ছিল, এই সুবিধার ফলে তা কেটে যাবে এবং বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক দাম ও সরবরাহ ঘাটতি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























