২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ এক জটিল ও অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ মাসে সীমান্তে উত্তেজনা, ভিসা সীমিতকরণ, এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে সম্পর্কের যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন কূটনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে খেলার মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মেরুকরণ এবং দিল্লির নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
সম্প্রতি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন দুই দেশের উত্তপ্ত রাজনীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসীর মতে, ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ইস্যুকে অনেক সময় ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লির জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, ভারত সরকার বর্তমানে সংখ্যালঘু ইস্যুতে অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলছে। তবে রাজনীতির সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনকে মিলিয়ে ফেলা সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
সম্পর্কের এই সংকটময় সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে একটি ইতিবাচক শিষ্টাচার হিসেবে দেখা হলেও, দ্বিপাক্ষিক মূল সমস্যাগুলো সমাধানে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে ‘সমমর্যাদাভিত্তিক’ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে থাকায় ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
[Image map of India-Bangladesh border and key trade corridors like the Siliguri Corridor, illustrating strategic importance]
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে দুই দেশেরই সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচার এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ভারত বিরোধী মনোভাব সম্পর্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে দিল্লি কীভাবে তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশীর ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ।
রিপোর্টারের নাম 

























