ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৪ হাজার জেলে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ভোলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে মাসে ৪০ কেজি হারে মোট ৭৭ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকেই সাগরে থাকা জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। জেলাজুড়ে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার ট্রলার ও শতাধিক ঘাটে এসব জেলেদের ফিরতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, অতীতে চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সঠিক সময়ে সহায়তা না পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের মাঝে। বিশেষ করে কর্মহীন এই সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে বরফকল ও জ্বালানি তেল বিক্রেতাদের ওপর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা ঘাটে ফিরলেই তা বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জেলেদের মানবিক দিক বিবেচনা করে এনজিওগুলোকে ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীতে চলন্ত গাড়িতে ছিনতাই: দেশীয় অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৪ হাজার জেলে

আপডেট সময় : ১২:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ভোলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে মাসে ৪০ কেজি হারে মোট ৭৭ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকেই সাগরে থাকা জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। জেলাজুড়ে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার ট্রলার ও শতাধিক ঘাটে এসব জেলেদের ফিরতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, অতীতে চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সঠিক সময়ে সহায়তা না পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের মাঝে। বিশেষ করে কর্মহীন এই সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে বরফকল ও জ্বালানি তেল বিক্রেতাদের ওপর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা ঘাটে ফিরলেই তা বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জেলেদের মানবিক দিক বিবেচনা করে এনজিওগুলোকে ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।