ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নির্বাচনি সমঝোতায় ১১ দল: আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঘোষণা আসতে পারে কাল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আলোচনা ও নানা সমীকরণ শেষে আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়াটি এখন শেষ ধাপে রয়েছে। সোমবার রাতে লিয়াজোঁ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে কয়েকটি দলের কিছু আসনের দাবি নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান থাকায় আজ মঙ্গলবার পুনরায় বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের বিষয়টি ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, আসন সমঝোতার বিষয়টি মঙ্গলবারের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট রূপ পাবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, মঙ্গলবার অথবা বুধবার এই সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। মূলত কোন দল কোন আসনে একক প্রার্থী দেবে, তা নির্ধারণ করতেই লিয়াজোঁ কমিটির এই তোড়জোড়। জামায়াত নেতাদের সঙ্গে শরিক দলগুলোর পৃথক বৈঠকের পর এখন দলগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো দল একমত হতে না পারলে তাদের ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের বৈঠক ইতিবাচক হলেও কিছু দাবি এখনো বাকি রয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, প্রার্থীর সমঝোতা নিয়ে সামান্য কিছু জটিলতা থাকলেও বুধবারের মধ্যে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এই নির্বাচনি সমঝোতায় থাকা দলগুলো হলো—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

সোমবার দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিদেশি প্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচন এবং জোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যেই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা মঙ্গলবারের মধ্যে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশুদিন (বুধবার) আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে আসব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ডিসেম্বর ১০ দলীয় সমঝোতার ঘোষণার পর এবি পার্টি যুক্ত হয়ে এটি ১১ দলে রূপ নেয়। বিশেষ করে বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি এবং জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে গঠিত তরুণদের দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যদিও ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দলগুলো একাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, তবে এখন প্রত্যাহারের মাধ্যমে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টির বেশি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি, খেলাফত মজলিসকে ৮টি, এলডিপিকে ৭টি এবং এবি পার্টিকে ৩টি আসন দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে কিছু দলের আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আসন সমঝোতার কৌশল সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয়লাভ করা। যে আসনে যে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি, সেখানেই তাকে সমর্থন দেওয়া হবে।” প্রয়োজনে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা কিংবা শরিকদের জন্য আরও ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও জোটের বড় শরিকদের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে জ্যাকেটের হাতায় বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়

নির্বাচনি সমঝোতায় ১১ দল: আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঘোষণা আসতে পারে কাল

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আলোচনা ও নানা সমীকরণ শেষে আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়াটি এখন শেষ ধাপে রয়েছে। সোমবার রাতে লিয়াজোঁ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে কয়েকটি দলের কিছু আসনের দাবি নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান থাকায় আজ মঙ্গলবার পুনরায় বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের বিষয়টি ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, আসন সমঝোতার বিষয়টি মঙ্গলবারের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট রূপ পাবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, মঙ্গলবার অথবা বুধবার এই সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। মূলত কোন দল কোন আসনে একক প্রার্থী দেবে, তা নির্ধারণ করতেই লিয়াজোঁ কমিটির এই তোড়জোড়। জামায়াত নেতাদের সঙ্গে শরিক দলগুলোর পৃথক বৈঠকের পর এখন দলগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো দল একমত হতে না পারলে তাদের ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের বৈঠক ইতিবাচক হলেও কিছু দাবি এখনো বাকি রয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, প্রার্থীর সমঝোতা নিয়ে সামান্য কিছু জটিলতা থাকলেও বুধবারের মধ্যে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এই নির্বাচনি সমঝোতায় থাকা দলগুলো হলো—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

সোমবার দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিদেশি প্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচন এবং জোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যেই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা মঙ্গলবারের মধ্যে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশুদিন (বুধবার) আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে আসব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ডিসেম্বর ১০ দলীয় সমঝোতার ঘোষণার পর এবি পার্টি যুক্ত হয়ে এটি ১১ দলে রূপ নেয়। বিশেষ করে বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি এবং জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে গঠিত তরুণদের দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যদিও ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দলগুলো একাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, তবে এখন প্রত্যাহারের মাধ্যমে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টির বেশি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি, খেলাফত মজলিসকে ৮টি, এলডিপিকে ৭টি এবং এবি পার্টিকে ৩টি আসন দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে কিছু দলের আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আসন সমঝোতার কৌশল সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয়লাভ করা। যে আসনে যে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি, সেখানেই তাকে সমর্থন দেওয়া হবে।” প্রয়োজনে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা কিংবা শরিকদের জন্য আরও ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও জোটের বড় শরিকদের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।