ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েলের সংসদে পশ্চিম তীর দখলের বিল প্রাথমিক অনুমোদন পেল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট দখল করে রাখা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি বিলকে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এই কাজকে কার্যত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সরাসরি নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার সমতুল্য মনে করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে। খবরটি দিয়েছে আল জাজিরা।

মঙ্গলবার ১২০ সদস্যের নেসেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৫টি এবং বিপক্ষে ২৪টি ভোট পড়ে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার লিকুদ দল বিলটির বিরোধিতা করা সত্ত্বেও এটি প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে আরও তিন দফা ভোটাভুটির ধাপ পেরোতে হবে।

এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সরাসরি দখল করার সামিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুডিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীর)-এর অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করার জন্য বিলটি প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন এটি আরও পর্যালোচনা করার জন্য পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হবে।

এই ভোটাভুটি এমন এক সময়ে হলো, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও মজবুত করতে ইসরায়েল সফরে আছেন। এর মাত্র এক মাস আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার অনুমতি দেবেন না।

লিকুদ পার্টি এক বিবৃতিতে এই ভোটকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ করার জন্য বিরোধীদের আরও একটি উস্কানি’ বলে উল্লেখ করেছে। নেতানিয়াহুর জোটের চরম-ডানপন্থী শরিক দল, যেমন—জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম—এই বিলের পক্ষে ভোট দেয়।

লিকুদ দলের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা হয় অনুপস্থিত ছিলেন, না হয় ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে দলের প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে লিকুদ সদস্য ইউলি এডেলস্টাইন বিলটির পক্ষে নির্ণায়ক ভোটটি দেন। ভোটাভুটির পরপরই ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হামাস, কাতার, সৌদি আরব এবং জর্ডান এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে শোরুম ম্যানেজারের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইসরায়েলের সংসদে পশ্চিম তীর দখলের বিল প্রাথমিক অনুমোদন পেল

আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট দখল করে রাখা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি বিলকে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এই কাজকে কার্যত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সরাসরি নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার সমতুল্য মনে করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে। খবরটি দিয়েছে আল জাজিরা।

মঙ্গলবার ১২০ সদস্যের নেসেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৫টি এবং বিপক্ষে ২৪টি ভোট পড়ে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার লিকুদ দল বিলটির বিরোধিতা করা সত্ত্বেও এটি প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে আরও তিন দফা ভোটাভুটির ধাপ পেরোতে হবে।

এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সরাসরি দখল করার সামিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুডিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীর)-এর অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করার জন্য বিলটি প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন এটি আরও পর্যালোচনা করার জন্য পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হবে।

এই ভোটাভুটি এমন এক সময়ে হলো, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও মজবুত করতে ইসরায়েল সফরে আছেন। এর মাত্র এক মাস আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার অনুমতি দেবেন না।

লিকুদ পার্টি এক বিবৃতিতে এই ভোটকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ করার জন্য বিরোধীদের আরও একটি উস্কানি’ বলে উল্লেখ করেছে। নেতানিয়াহুর জোটের চরম-ডানপন্থী শরিক দল, যেমন—জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম—এই বিলের পক্ষে ভোট দেয়।

লিকুদ দলের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা হয় অনুপস্থিত ছিলেন, না হয় ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে দলের প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে লিকুদ সদস্য ইউলি এডেলস্টাইন বিলটির পক্ষে নির্ণায়ক ভোটটি দেন। ভোটাভুটির পরপরই ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হামাস, কাতার, সৌদি আরব এবং জর্ডান এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।