উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় শীতের তীব্রতা বহুগুণে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চারটি শিশুও রয়েছে।
আজ রবিবার রংপুর বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিভাগের অন্যান্য সাত জেলায় তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেলায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও রোদের তেজ নেই বললেই চলে, এবং তা তিন-চার ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, কোল্ড ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্দার অফিসের কর্মী মমতাজ উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং চারজন শিশু রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রের আউটডোরে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে। আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্মীরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তা স্থায়ী থাকছে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। বেশিরভাগ জেলায় মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে, ফলে সারাদিনই হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বরাদ্দের চাহিদা দেওয়া হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ আসেনি। বার বার তাগাদা দেওয়ার পরেও কম্বল সংকট কাটছে না। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















