ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সাগরের দান: টেকনাফে এক জালেই ৯ লাখ টাকার মাছ, জেলেদের মুখে স্বস্তির হাসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে সম্প্রতি এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে জেলেদের টানা জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি স্থানীয় জেলেদের মুখে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি, যা দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া ও গোদারবিল এলাকার উপকূলীয় সৈকতে এই মৎস্য সম্ভার ধরা পড়ে। এক জালেই ১০৬ মণের বেশি ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ আটকা পড়ে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা সৈকতে ভিড় জমান মাছ তোলার দৃশ্য দেখতে।

গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদের মালিকানাধীন জালে এই মাছ ধরা পড়ে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং হয়তো আল্লাহর রহমতে আজ হঠাৎ করেই সাগরে এত মাছ ধরা পড়েছে। আমার এক জালেই ১০৬ মণের বেশি মাছ উঠেছে, যা প্রায় ৯ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বছরের শুরুতে এমন প্রাপ্তি জেলেদের মাঝে আনন্দ বয়ে এনেছে।” নৌকার মাঝি মো. ইসলাম, যার পরিবার অভাবে কিস্তিতে চলছিল, তিনি বলেন, “অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। আজ আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। এই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ইনশাআল্লাহ কিস্তি পরিশোধ করতে পারব এবং পরিবারে দু’বেলা খাবার জুটবে।”

সাগর থেকে মাছ তোলার পরপরই পাইকারি ক্রেতারা তা দ্রুত কিনে নেন। এসব মাছের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন শুঁটকি মহালগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাজকিরা এই বিপুল মাছ ধরা পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, “শীত মৌসুমে ছুরি মাছের প্রজনন বেশি হয়। এছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এখন মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়ম মেনে মাছ শিকারের সুফল এখন জেলেরা পাচ্ছে, যা স্থানীয় মৎস্য খাতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে।” এই ঘটনা শুধু জেলেদের ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তিই আনেনি, বরং টেকনাফের মৎস্য শিল্পেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার হবে আপসহীন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দাবি শিক্ষার্থীদের: প্রসিকিউটর তামীম

সাগরের দান: টেকনাফে এক জালেই ৯ লাখ টাকার মাছ, জেলেদের মুখে স্বস্তির হাসি

আপডেট সময় : ০১:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে সম্প্রতি এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে জেলেদের টানা জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি স্থানীয় জেলেদের মুখে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি, যা দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া ও গোদারবিল এলাকার উপকূলীয় সৈকতে এই মৎস্য সম্ভার ধরা পড়ে। এক জালেই ১০৬ মণের বেশি ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ আটকা পড়ে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা সৈকতে ভিড় জমান মাছ তোলার দৃশ্য দেখতে।

গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদের মালিকানাধীন জালে এই মাছ ধরা পড়ে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং হয়তো আল্লাহর রহমতে আজ হঠাৎ করেই সাগরে এত মাছ ধরা পড়েছে। আমার এক জালেই ১০৬ মণের বেশি মাছ উঠেছে, যা প্রায় ৯ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বছরের শুরুতে এমন প্রাপ্তি জেলেদের মাঝে আনন্দ বয়ে এনেছে।” নৌকার মাঝি মো. ইসলাম, যার পরিবার অভাবে কিস্তিতে চলছিল, তিনি বলেন, “অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। আজ আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। এই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ইনশাআল্লাহ কিস্তি পরিশোধ করতে পারব এবং পরিবারে দু’বেলা খাবার জুটবে।”

সাগর থেকে মাছ তোলার পরপরই পাইকারি ক্রেতারা তা দ্রুত কিনে নেন। এসব মাছের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন শুঁটকি মহালগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাজকিরা এই বিপুল মাছ ধরা পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, “শীত মৌসুমে ছুরি মাছের প্রজনন বেশি হয়। এছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এখন মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়ম মেনে মাছ শিকারের সুফল এখন জেলেরা পাচ্ছে, যা স্থানীয় মৎস্য খাতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে।” এই ঘটনা শুধু জেলেদের ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তিই আনেনি, বরং টেকনাফের মৎস্য শিল্পেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।