বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ, বগুড়া জেলা’ এবং ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ, বগুড়া নামে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জাপার কার্যালয়টি দখল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও দলের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে সদর থানার পাশের কার্যালয়টি দখলে নেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন ব্যানার টানানো ব্যক্তিরা। এর মধ্যে কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সংবলিত ও গণভোট নিয়ে ব্যানার দুটি টানানো হয়। একইসঙ্গে এখান থেকে আসন্ন গণভোটের প্রচারণা চালানো হবে বলেও জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কয়েকজন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জাপার কার্যালয় দখলে নেন। এ সময় তারা কার্যালয়ে জাপার পক্ষ থেকে টাঙানো খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সংবলিত একটি ব্যানার খুলে ফেলেন। পরে বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে দুটি ব্যানার টানিয়ে দেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। তবে কার্যালয় থেকে ব্যানার সরাতে পারেনি পুলিশ।
বিক্ষোভকারী দুজন জানান, দেশের ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। তারা আওয়ামী লীগের দোসর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে জেল-জুলুম করেছে। জাতীয় পার্টি তখন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল হয়েছিল। আজ তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকের ব্যানার লাগিয়ে সমবেদনা জানাচ্ছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সংবলিত ব্যানার
‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সম্পাদক নাহিদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কার্যালয় থেকে আমরা গণভোটের প্রচারণা চালাবো সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য। এখানে মানুষকে বোঝানো হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ দিলে কী হবে। এজন্য কার্যালয়টিতে ব্যানার টানানো হয়েছে।’
প্রচারণা চালানোর জন্য জাতীয় পার্টির কার্যালয় কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এরা আওয়ামী লীগের দোসর। গত কয়েকদিন আগে এখানে ব্যানার লাগানো হয় গণভোটের প্রচারের জন্য। পরে জেলা জাপার সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর লোকজন আমাদের সংগঠনের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়েছেন। তাই আমরা আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি। এখান থেকে আমরা গণভোটের প্রচারণা চালাবো।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনসিপির বগুড়া জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান ও সদস্য নুর মোহাম্মদ জুবায়ের জানান, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসর। তারা এই কার্যালয়ে আসলে সাধারণ জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। এখান থেকে জুলাইযোদ্ধারা গণভোটের প্রচারণা চালাবে। এছাড়া বর্তমানে অফিসটি জাপার নামে লিজ নেওয়া নেই। লিজের কাগজপত্র দেখাতে পারলে জুলাইযোদ্ধারা ব্যানার খুলে নেবে।
বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার দুপুরে আমরা ছয়-সাত জন দলীয় কার্যালয়ে ছিলাম। এ সময় ৫০-৬০ জন জুলাইযোদ্ধা ও এনসিপি নেতাকর্মী পরিচয়ে আমাদের দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আমরা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ব্যানার টানিয়ে ছিলাম। কিন্তু সেটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। দলীয় কার্যালয় দখলের ব্যাপারে জানাতে জেলা প্রশাসকের অফিস ও বাসভবনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দলীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী দাবি করলেও জাতীয় পার্টির অফিস দখল করে নিজেদের বৈষম্য সৃষ্টিকারীর পরিচয় দিয়েছে। এর আগে গত বছরের ২ আগস্ট রাত ও ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর জাতীয় পার্টি এই অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছিল। বুলডোজার এনেও অফিসের সামনের অংশ গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
এ প্রসঙ্গে বগুড়া সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। ওই অফিসের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
রিপোর্টারের নাম 





















