নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় এই সংঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ফতুল্লা থানা তাঁতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এলাকার কলকারখানার ঝুট (আবর্জনা), ভূমিদস্যুতা ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনসহ মোট আটজনকে আটক করা হয়। আটককৃত অন্যরা হলেন আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ। তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের কিছু অংশ জব্দ করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের আট জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য এবং বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
তবে, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান সংঘর্ষের কারণ হিসেবে আধিপত্য বিস্তারকে উল্লেখ করে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ককটেল বা গুলিবর্ষণের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই, বরং আতশবাজি ফোটানোর আলামত পাওয়া গেছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিরপরাধদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















