ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপ ভেন্যু বিতর্ক: জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে জয় শাহের জরুরি বৈঠক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিল সংকট নিরসনে অবশেষে মাঠে নামছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির সভাপতি জয় শাহ। আগামীকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভারতের ভাদোদরায় ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি সংলাপে বসতে যাচ্ছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে এটি নিছক একটি ভেন্যু স্থানান্তরের সাধারণ অনুরোধ মনে হলেও, বর্তমানে তা বাংলাদেশের জন্য জাতীয় মর্যাদা ও আত্মসম্মানের এক স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে দেওয়া প্রথম চিঠিতে ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিতে বিসিবির অবস্থান আরও কঠোর হয়। বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি এখন আর কেবল যাতায়াত বা লজিস্টিক সংক্রান্ত সমস্যা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ‘জাতীয় মর্যাদার’ প্রশ্ন। মূলত, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ‘উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ’ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত।

বিসিবি তাদের বার্তায় জোর দিয়ে বলেছে, যদি ভারতকে ভেন্যু হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব না হয়, তবে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি সদস্য— খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ‘ম্যান-টু-ম্যান’ অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিসিবির এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, এটি এখন কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং আত্মমর্যাদার এক লড়াই।

আইসিসি এখন পর্যন্ত বিসিবির এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। আইসিসি সভাপতি হিসেবে জয় শাহর প্রথম কাজ হবে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা এবং বাংলাদেশের আপত্তির মূল জায়গাগুলো খতিয়ে দেখা। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কেবল কাগজ-কলমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। জয় শাহকে সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনায় বসে এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অখণ্ডতা বজায় থাকে এবং ঢাকার ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি না করেই একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা টুর্নামেন্টে আসায় তাদের বাদ দেওয়া আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইসিসি বোর্ডে ভোটের প্রয়োজন হতে পারে, যা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেও মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল করতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থান। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বর্তমান ভেন্যু পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে বিষয়টিকে জাতীয় সম্মানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ফলে জয় শাহকে এখন কেবল ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের একজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবেই এই জটিল উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

বিশ্বকাপ ভেন্যু বিতর্ক: জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে জয় শাহের জরুরি বৈঠক

আপডেট সময় : ১০:০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিল সংকট নিরসনে অবশেষে মাঠে নামছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির সভাপতি জয় শাহ। আগামীকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভারতের ভাদোদরায় ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি সংলাপে বসতে যাচ্ছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে এটি নিছক একটি ভেন্যু স্থানান্তরের সাধারণ অনুরোধ মনে হলেও, বর্তমানে তা বাংলাদেশের জন্য জাতীয় মর্যাদা ও আত্মসম্মানের এক স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে দেওয়া প্রথম চিঠিতে ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিতে বিসিবির অবস্থান আরও কঠোর হয়। বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি এখন আর কেবল যাতায়াত বা লজিস্টিক সংক্রান্ত সমস্যা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ‘জাতীয় মর্যাদার’ প্রশ্ন। মূলত, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ‘উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ’ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত।

বিসিবি তাদের বার্তায় জোর দিয়ে বলেছে, যদি ভারতকে ভেন্যু হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব না হয়, তবে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি সদস্য— খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ‘ম্যান-টু-ম্যান’ অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিসিবির এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, এটি এখন কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং আত্মমর্যাদার এক লড়াই।

আইসিসি এখন পর্যন্ত বিসিবির এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। আইসিসি সভাপতি হিসেবে জয় শাহর প্রথম কাজ হবে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা এবং বাংলাদেশের আপত্তির মূল জায়গাগুলো খতিয়ে দেখা। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কেবল কাগজ-কলমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। জয় শাহকে সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনায় বসে এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অখণ্ডতা বজায় থাকে এবং ঢাকার ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি না করেই একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা টুর্নামেন্টে আসায় তাদের বাদ দেওয়া আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইসিসি বোর্ডে ভোটের প্রয়োজন হতে পারে, যা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেও মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল করতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থান। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বর্তমান ভেন্যু পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে বিষয়টিকে জাতীয় সম্মানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ফলে জয় শাহকে এখন কেবল ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের একজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবেই এই জটিল উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করতে হবে।