ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজাকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ করে তুলেছে ইসরায়েল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা কাতারের আমিরের

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে সব ধরনের ইসরায়েলি লঙ্ঘন ও দমননীতির আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই বিশেষ করে গাজা ভূখণ্ডকে মানুষ বসবাসের অনুপযুক্ত এলাকায় পরিণত করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করা।”

কাতার দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু আমিরের অভিযোগ, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা সেই যুদ্ধবিরতিকে কার্যত ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ চত্বরকে ইহুদিকরণ করার অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির তামিম গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের’ জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বলেন। তিনি ইসরায়েলের এই আগ্রাসনকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসও আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে, যাতে তারা ১০ অক্টোবরের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি ২০ জীবিত জিম্মির মুক্তি দিয়েছে এবং ১৩ জনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে, এর বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিয়মিত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহকে রাজনৈতিক চাপে পরিণত করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন—যা গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন মিত্ররা লক্ষ্যবস্তু

গাজাকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ করে তুলেছে ইসরায়েল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা কাতারের আমিরের

আপডেট সময় : ১২:০৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে সব ধরনের ইসরায়েলি লঙ্ঘন ও দমননীতির আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই বিশেষ করে গাজা ভূখণ্ডকে মানুষ বসবাসের অনুপযুক্ত এলাকায় পরিণত করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করা।”

কাতার দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু আমিরের অভিযোগ, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা সেই যুদ্ধবিরতিকে কার্যত ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ চত্বরকে ইহুদিকরণ করার অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির তামিম গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের’ জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বলেন। তিনি ইসরায়েলের এই আগ্রাসনকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসও আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে, যাতে তারা ১০ অক্টোবরের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি ২০ জীবিত জিম্মির মুক্তি দিয়েছে এবং ১৩ জনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে, এর বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিয়মিত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহকে রাজনৈতিক চাপে পরিণত করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন—যা গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে।